আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি

কী জবাব দেব আল্লাহ-রসুলের কাছে?

17 Jan, 2018 Super Admin 204 ভিউ
কী জবাব দেব আল্লাহ-রসুলের কাছে?

মোহাম্মদ আসাদ আলী
এক হাজার বছর আগের পৃথিবী আর একবিংশ শতাব্দীর পৃথিবী এক নয়। এক হাজার বছর আগের পৃথিবীর সমস্যা ছিল একরকম, বর্তমান যুগের সমস্যা অন্যরকম। তখনকার মানুষের চিন্তাধারার সাথেও বর্তমান যুগের মানুষের চিন্তাধারার বিস্তর তফাৎ হয়ে গেছে। সবকিছুই পরিবর্তিত হয়েছে, শুধু ইসলামকে আমরা আটকে রেখেছি হাজার বছর আগের ফকিহ-মুফাসসির-মুহাদ্দিসদের লেখা কিতাব-কালামের মধ্যে। চিন্তাশীলতা ও যুক্তিশীলতার এই যুগে আমাদের দায়িত্ব ছিল ইসলামকেও যুক্তিনির্ভর যুগোপযোগী দ্বীন হিসেবে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা, কিন্তু আমরা যুগের এই চাহিদা অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছি। পৃথিবীতে যখন তথ্য-প্রযুক্তির জোয়ার বয়ে যায় আমরা তখন ছবি তোলা জায়েজ কিনা তা নিয়ে বিতর্ক করি। পৃথিবী যখন সাম্রাজ্যবাদে জর্জরিত আমরা তখন ফেরকাবাজে লিপ্ত। পৃথিবী যখন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নামক অস্তিত্ব-অনস্তিত্বের সঙ্কটে নিমজ্জিত আমরা তখন মানুষের দাড়ি আর টাখনুর কাপড় মাপতে ব্যস্ত। এভাবে ধর্মকে আমরা ক্ষুদ্র গণ্ডিতে আবদ্ধ করে ফেলেছি।

আল্লাহর দেওয়া আকাশের মত বিশাল ইসলামকে আমরা যারা দাড়ি, টুপি, মেসওয়াক, পাগড়ী, টাখনু, ঢিলা, কুলুখ ইত্যাদির মধ্যে আবদ্ধ করে রেখেছি, হাশরের দিনে কী জবাব দেব আল্লাহ ও রসুলের কাছে?

আজ আমাদের সমাজব্যবস্থা বিপর্যস্ত কিন্তু ধর্ম তা নিয়ে কথা বলে না। আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা ভঙ্গুর কিন্তু ধর্ম তা নিয়ে মাথা ঘামায় না। আমাদের অর্থব্যবস্থা শোষণবান্ধব কিন্তু ধর্মের তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা মানুষকে পশু বানাচ্ছে কিন্তু ধর্মের সেদিকে নজর নেই। আমাদের বিশ্ব উত্তপ্ত হয়ে আছে অন্যায়, অবিচার, যুদ্ধ, রক্তপাতে কিন্তু ধর্ম আছে চোখ বন্ধ করে। বাস্তব সমস্যার কোনো সমাধান মানুষ ধর্ম থেকে পাচ্ছে না। অন্যান্য ধর্মের মত ইসলামকেও নিছক পরকালমুখী আচার-অনুষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। তাহলে মানুষ কেন সেই ধর্মের দিকে আকৃষ্ট হবে?
যে মানুষ ক্ষুধার জ্বালায় কষ্ট পাচ্ছে তার খাদ্য দরকার। যে তাকে খাদ্য দিবে সে-ই তার কাছে অবতার। মানুষ তাকেই আলিঙ্গন করে নিবে। সে কোন ধর্মের কোন জাতের তা দেখবে না। আমরা আল্লাহর রসুলকে বিশ্বের রহমত বলে গর্ববোধ করি, কিন্তু আমাদের ধর্ম যদি ঐ ক্ষুধার্ত মানুষের কষ্ট দূর করতে না পারে, এমনকি এ নিয়ে ভাবনারও প্রয়োজনবোধ না করে তাহলে ঐ ক্ষুধার্ত মানুষগুলো কোন কারণে আমার ধর্মের দিকে আকৃষ্ট হবে? তারা সেই মতবাদের দিকেই আকৃষ্ট হবে যে মতবাদ তাদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসবে। যেমন রাশিয়া, চীন, কিউবা, ভিয়েতনামের অনাহারী মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার জন্য সমাজতন্ত্র এগিয়ে এসেছিল, তাই তারা সমাজতন্ত্রকে আলিঙ্গন করে নিয়েছে। যদি ইসলাম এগিয়ে আসত তাহলে ইসলামকেই তারা আলিঙ্গন করে নিত আর আল্লাহ-রসুলকে নিজেদের প্রাণের চেয়ে প্রিয় মনে করত।
একইভাবে যে মানুষের থাকার জায়গা নেই, ফুটপাতে রাত কাটাচ্ছে, দেশে দেশে বিতাড়িত হচ্ছে, তার নিরাপদ আশ্রয় দরকার। যে তাকে আশ্রয় দিবে সে-ই তার ভক্তিস্থানীয় হবে। আমাদের ধর্ম তো ওসব নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না। ওগুলোকে দুনিয়াদারী মনে করা হচ্ছে। মানুষ রোদ বৃষ্টিতে কষ্ট পাচ্ছে কিন্তু আমরা কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে আলীশান মসজিদ বানাচ্ছি, সোনার গম্বুজ বসাচ্ছি। তাহলে ঐ আশ্রয়হীন মানুষ কেন ধর্মের দিকে আকৃষ্ট হবে? আলীশান মসজিদের পাশে ভিক্ষারত অনাহারী ছিন্নমূল মানুষটির কাছে আল্লাহর ঘর মসজিদের দুনিয়াবী কোনো মাহাত্ম্য আছে কি?
প্রকৃতপক্ষে মানুষের এসব বাস্তব সমস্যা থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখা অর্থাৎ যুগের চাহিদা পুরণ করতে ব্যর্থ হওয়ার পরিণতি এই হয়েছে যে, যারা সমাজ নিয়ে একটু হলেও চিন্তা করে, পৃথিবীর সঙ্কটগুলোকে উপলব্ধি করে এবং তার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করে, তারা ধর্ম থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। ধর্ম তাদের কাছে প্রাচীন ঐতিহ্যের নামমাত্র। বাস্তব সমস্যার সমাধান হিসেবে তারা গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, সাম্যবাদ ইত্যাদি ব্যবস্থা বেছে নিচ্ছে। এই ব্যবস্থাগুলো প্রতিষ্ঠার জন্য তারা জান-মাল দিয়ে সংগ্রাম করছে, প্রয়োজনে জীবন দিচ্ছে, যেভাবে উম্মতে মোহাম্মদী জাতি এক সময় আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছে। কিন্তু উম্মতে মোহাম্মদীর সাথে এই গণতন্ত্রী-সমাজতন্ত্রীদের পার্থক্য হচ্ছে, এদের এই আত্মত্যাগ শেষাবধি মানুষকে ন্যায়, শান্তি ও সুবিচার এনে দিতে পারছে না, কারণ এগুলো মানবসৃষ্ট মতবাদ, ত্রুটিযুক্ত ও ভারসাম্যহীন, শান্তি আসবে কেবল আল্লাহর দেওয়া ব্যবস্থায়, যেটা উম্মতে মোহাম্মদী করে দেখিয়েছি ইতিহাসে।
কিন্তু সেই আল্লাহর দেওয়া আকাশের মত বিশাল ইসলামকে আমরা যারা মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকা, হুজরার মধ্যে আবদ্ধ করে রেখেছি এবং মানবজাতিকে দিনদিন ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যেতে দেখেও দাড়ি, টুপি, মেসওয়াক, পাগড়ী, টাখনু, ঢিলা, কুলুপ ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি তারা হাশরের দিনে কী জবাব দেব আল্লাহ ও রসুলের কাছে?

মন্তব্য সমূহ (0)

বর্তমানে কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

আপনার মতামত দিন

জনপ্রিয় ট্যাগ
#মামলার অব্যাহতি #গোলটেবিল বৈঠক #হাইকোর্টের রায় #অপপ্রচার #muchleka #কোরবানি কখন কবুল হবে? #হেযবà§�ত তওহীদ #ইসলামি ইতিহাস #উগ্রবাদ #গুজব #নারী #পর্দা #প্রকৃত ইসলাম #প্রকৃত ইসলামের নারী #হেযবুত তওহীদ #হেযবুত তওহীদের নারী #ইসলাম #নোয়াখালীত #বকধার্মিকতা #মন্তব্য কলাম #মন্তব্য কলাম বাড়ছে বকধার্মিকতা #কারা সেই জান্নাতি ফেরকা? #জান্নাতি #জান্নাতি ফেরকা #মুস্তাফিজ শিহাব #চলমান সঙ্কট #মুখলেছুর রহমান সুমন #রাজনৈতিক ইসলাম #ধর্ম নিয়ে ঘৃণার রাজনীতি #রামমন্দির ও থার্ড টেম্পল #ইসলামের অপব্যাখ্যা #জাতি ভেঙে খানখান #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ির #ধর্ম #পরিণাম জাতি ভেঙে খানখান #ফেরেশতা #মানুষ সৃষ্টির #মো’জেজা: কী কেন কীভাবে? #পহেলা বৈশাখ #সংস্কৃতির #সাংস্কৃতিক অঙ্গন #আমল #ঈমান #আদিবা ইসলাম #এমামুযযামান #রিয়াদুল হাসান #লা’নত নাকি পরীক্ষা #লানত #কাঁটাতারে ব্যর্থ #বিশ্বভ্রাতৃত্বের #মুসলিম #রোড টু ফিলিস্তিন #নামাজ #নামাজ কেন পড়ছেন? #মোহাম্মদ আসাদ আলী #ধর্মজীবিকা #ধর্মবিশ্বাসী #শিক্ষাব্যবস্থা #অশান্তি সৃষ্টির কারণ #এম আর হাসান #চরিত্রহীন নেতৃত্ব #বস্তুবাদী সভ্যতা #বাস্তব সমস্যা #মহানবীর (সা.) #দেশকে রক্ষা #বিশ্ব মুসলমান #মদিনার #রাকীব আল হাসান #মাননীয় এমাম #হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম #ইসলামের ইতিহাস #মো’মেনদের #দাজ্জাল #দাজ্জালকে চিনতে হবে #ধর্মব্যবসা #উম্মতে মোহাম্মাদি #তওহীদ #মো’জেজা: #মুসলিমরা আজ সংকটের সম্মুখীন #খলিফা #দীন প্রতিষ্ঠা #দীনের মূল ভিত্তি #লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ #সেরাতুল মোস্তাকিম #২৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী #civilized’ #deterrent #islam world #world #জীবনব্যবস্থা #প্রশ্ন উত্তর #প্রশ্নোত্তর #হেযবুত তওহীদের #hezbuttawheed #hossain mohammad salim #Resolving the Global Crisis #Students #ঐক্য ##MarathonHT #Marathon #lifestyle #ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যের আহ্বান #workplace #religious extremists #democratic system #economic system #politics #Allah #Aqeedah of islam #God #Haj #Jihad #Kital #Prophet Muhammad #terrorism #কোরবানি #ত্যাগ #বজ্রশক্তি #সম্পাদক এসএম সামসুল হুদা #সাক্ষাৎকার #হেযবুত তওহীদের বিজয় #রসুলুল্লাহর সুন্নাহ #দাসপ্রথার #জঙ্গিবাদ #আইয়্যামে জাহেলিয়াত #জেহাদ #দোয়া #সঠিক জীবন ব্যবস্থা #জ্ঞান #বাণী #ইমাম মাহদী #কবিতা #রাজনীতি #মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা #আশুরা #শহীদ #প্রকৃত ইসলামের মসজিদ #মসজিদে নারী #দাউদ খান পন্নী #ঔপনিবেশিক যুগ #সংগীত #স্বাধীনতা #খোলাফায়ে রাশেদীন #যোদ্ধাসুফি #স্বর্ণযুগের মোল্লাতন্ত্র #মানুষ সৃষ্টি #প্রকৃত ইসলামের বিয়ে #বাংলার সুলতানী যুগ #গণমাধ্যম #মহামান্য এমামুযযামানের জীবনবৃত্তান্ত #ইসলাম অর্থ #শান্তি #পাকিস্তান #দৈনিক বজ্রশক্তি #খেলাধুলা #আইনের উৎস #নির্বাচন #সংস্কৃতি #জ্ঞান-বিজ্ঞান #মহানবীর লড়াই #হজ #সাম্যবাদ ও ইসলাম #বাংলাদেশ #কোর’আন #শিক্ষা #নবুয়তপূর্ব জীবন #ইসলামবিদ্বেষী #ইতিহাস ও ইসলাম #চরমোনাই #ওমর (রা.) #তারেক বিন যিয়াদ #কর্মফল #পুঁজিবাদ #মার্কস #হারাম #সুফিবাদ #বাঙালি #মানবজীবন #মুসলিমদের ইতিহাস #প্রশ্ন #রাগ #আকিদা #কমিউনিজম #জান্নাত-জাহান্নাম #মণীষীদের জীবনী #মধ্যযুগীয় বর্বরতা #স্বর্ণযুগ #গণজোয়ার #গণপ্রতিরোধ #তওহীদী জনতা #কর্মজীবন #ইসলাম আবির্ভাব #ইসলামের বিস্তৃতি #অর্থনীতি #রিজিক #বিস্ময়কর আন্দোলন #নারী স্বাধীনতা #মোনাফেক #সাম্প্রদায়িকতা #তাকওয়া #৫ দফা কর্মসূচি