আদর্শিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি

মরচে ধরা হাতুড়ি-কাস্তে শানিয়ে নিন কমরেড

21 May, 2023 Super Admin 1119 ভিউ
মরচে ধরা হাতুড়ি-কাস্তে শানিয়ে নিন কমরেড

ইউরোপের ইতিহাস সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিমাত্রই জানেন যে, ঈসা (আ:) এর বিদায় গ্রহণের কিছুদিন পর জনগণের উপর দেশগুলির রাজন্যবর্গ জোরপূর্বক খ্রিস্টধর্ম চাপিয়ে দিয়েছিল এবং চেয়েছিল খ্রিস্টধর্ম দ্বারা তাদের জাতীয় জীবন পরিচালনা করতে। সুতরাং রোমান ক্যাথেলিক ধর্মযাজকদের হাতে অর্পত হয়েছিল মানুষের ইহজীবন ও পরজীবনের ফায়সালা, যদিও রাজ্যগুলির অধীশ্বর ছিলেন রাজাই। যেহেতু ঈসা (আ:) আনীত শিক্ষায় জাতীয় জীবন পরিচালনার মত অর্থনৈতিক, বিচারিক, প্রশাসনিক ব্যবস্থাগুলি ছিল না, তাই ‘ঐশ্বরিক ক্ষমতার উত্তরাধিকার’ ধর্মযাজকরা নিজেদের মনগড়া বিধানকেই ঈশ্বরের বাণী বোলে চালিয়ে দিত। অপরদিকে রাজারাও ছিলেন দুর্দান্ত অত্যাচারী ও স্বৈরাচারী।

এই উভয়প্রকার স্বৈরাচারী ব্যবস্থার নিষ্পেষণে সাধারণ মানুষের জীবন একেবারে ওষ্ঠাগত হয়ে গিয়েছিল। চার্চ ও রাজারাও একে অপরের উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিল। এই অবস্থার সমাধানকল্পে মাত্র দু’টি রাস্তাই সমাজচিন্তকদের দৃষ্টিগোচর হয়েছিল। হয় ধর্মকে অস্বীকার করতে হবে, নয়তো তাকে জাতীয় জীবন থেকে আলাদা করে ব্যক্তিজীবনের ক্ষুদ্র পরিধিতে নির্বাসন দিতে হবে। যেহেতু ধর্মকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা তথা সম্পূর্ণ ইউরোপের জনগণকে নাস্তিক বানিয়ে দেওয়া তখনো সম্ভব ছিল না, তাই অষ্টম হেনরির সময়ে ১৫৩৭ সনে সিদ্ধান্ত গৃহিত হলো যে, মানুষের জাতীয় জীবনে ধর্মের কোনো জায়গা থাকবে না। চার্চ কেবলই মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের ভালোমন্দ, প্রার্থনা আর পরকাল নিয়ে কাজ করতে পারবে। স্রষ্টার বিধি-নিষেধকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় জীবন থেকে এই প্রথম বর্জন করা হলো। এ থেকেই ক্রমশ জন্ম নিল এক চরম বস্তুবাদী ‘সভ্যতা’ দাজ্জাল যা ধীরে ধীরে সমগ্র পৃথিবীতেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। সেই দাজ্জালেরই সৃষ্ট ব্যবস্থা হলো পুঁজিবাদী গণতন্ত্র।

দাজ্জালের জন্মের খুব অল্প দিনের ভেতরেই সামন্তবাদ ও রাজতন্ত্রের জায়গা দখল করে নিল পুঁজিবাদী গণতন্ত্র। এই পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের প্রভাবে সমাজ আরও ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ল। দেখা গেল সমাজের এক শ্রেণির লোক রাতারাতি অসম্ভব অকল্পনীয় সম্পদ-অর্থবিত্তের মালিক বনে যাচ্ছে, আর এক শ্রেণির লোক অর্ধাহারে, অনাহারে থেকে জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। ইউরোপের এই বৈষম্য এত প্রকট আকার ধারণ করলো যে, আজকালকার আধুনিক যুগে সেটা চিন্তারও বাইরে। এ পরিস্থিতি দেখে ইউরোপের অনেক জ্ঞানী-গুণী, পণ্ডিত, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিদরা মানুষের মুক্তির পথ সন্ধান করতে লাগলেন। এদেরই অন্যতম হলেন কার্ল মার্কস, এঙ্গেলস, হেগেলস, লেনিন, লুক্সেমবার্গ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ। তারা এই পুঁজিবাদী ব্যবস্থা থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আবিষ্কার করলেন সমাজতন্ত্র। তাদের কিছু কিছু শ্লোগান ঔপনিবেশিক ও পুঁজিবাদী শাসনের বেড়িবদ্ধ শ্রমদাস শ্রেণিকে আলোড়িত করেছিল যেমন: কেউ খাবে কেউ খাবে না, তা হবে না-তা হবে না, Workers of the world, unite! বিশ্বের লক্ষ-কোটি জনতা সমাজতন্ত্রকে আলিঙ্গন করে নিলো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কয়েকদিন পরেই সমাজতন্ত্রের অসারতাও প্রমাণিত হয়ে গেল। জেগে উঠলো  নতুন শ্লোগান: Better dead than red অর্থাৎ সমাজতন্ত্রের চেয়ে মৃত্যুও শ্রেয়।

যারা এক সময় সাম্যবাদী আদর্শকে বুকে ধরে প্রবল প্ররাক্রমশালী শক্তির বিরুদ্ধে লড়েছেন, যারা শোষণমুক্ত সমাজের কল্পনা করতেন, যারা অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে জীবনকে শেষ করে দিয়ে গেছেন, মানুষের কল্যাণ সাধনকেই জীবনের উদ্দেশ্য হিসেবে জেনেছেন, যারা জীবনে ভালো খেতে-পরতে পারেন নি, সন্তানদের লেখাপড়া করাতে পারেন নি, এমনকী সমাজ পরিবর্তনের নেশায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন নি তারাই আজ পরাজিত শক্তি, তাদের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেছে। তাদের আদর্শের পতন তারা চেয়ে চেয়ে দেখেছেন এবং দেখছেন। এখন তাদের অনেকেই আন্দোলন সংগ্রামকে পরিত্যাগ করে গণতন্ত্র মেনে নিয়ে ঘোর পুঁজিবাদীতে পরিণত হয়েছেন। বিশ্বে মাত্র চারটি দেশে যথা চীন, কিউবা, লাওস আর ভিয়েতনামে সমাজতন্ত্র টিকে আছে, তবে এটাকে টিকে থাকা বলে না। কেননা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র চীন সবচেয়ে বড় পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। সুতরাং মোড়ক পাল্টিয়ে আবার ফিরে এসেছে সেই পুঁজিবাদ যা মানবজাতিকে দিতে পারে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা যা প্রকৃতপক্ষে সংখ্যাল্প শ্রেণি কর্তৃক সংখ্যাগুরুদের দমনের একটা বিশেষ যন্ত্র। আর স্বভাবতই সংখ্যাল্প শোষক কর্তৃক সংখ্যাগুরু শোষিতদের নিয়মিত দমনের মতো একটি বিষম ব্যাপারে সফল হোতে হোলে দরকার দমনের চূড়ান্ত হিংস্রতা ও পাশবিকতা, দরকার রক্তের একটি সমুদ্র, মানবজাতিকে যেখানে খুঁড়িয়ে চলতে হয় সর্বপ্রকার দাসত্বে, মজুরি দাসত্বে। এটাই আমাদের বর্তমান পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থার চিত্র।

যারা সমাজতান্ত্রিক আদর্শের পথ দিয়ে মানুষের মুক্তি কামনা করে হতাশ হয়েছেন, যারা সত্যিকার অর্থেই মানুষের কল্যাণ চান তাদের প্রতি আমাদের কথা হলো- ‘আপনারা এতদিন যে ধর্মকে দেখে এসেছেন, যে ধর্মকে আপনাদের গুরু কার্ল মার্কস আফিম বলেছেন সেটা প্রকৃতপক্ষে আফিমই ছিল, কারণ সে ধর্ম মানুষকে বুঁদ করে দেয়। কিন্তু যেটা প্রকৃত জীবনব্যবস্থা- ইসলাম, সেটা মার্কস দেখেন নি। সেটা কেবল গতিশীলই নয়, সেটা ছিল এমন এক সাইক্লোনের মত যার সৃষ্ট প্লাবন অতি সামান্য সময়ে অর্ধ দুনিয়াকে প্লাবিত করেছিল এবং তা শাসক আর শাসিতকে এক কাতারে নিয়ে এসেছিল। কেবল অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, মানবজীবনের প্রতিটি অঙ্গন থেকে সর্বপ্রকার অন্যায় অবিচার দূর করে চূড়ান্ত শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছিল। সেই প্রকৃত ইসলাম আবার এসে গেছে। সেই মহামূল্যবান সত্যের সন্ধান দেওয়ার লক্ষ্যইে অবিশ্রাম কাজ করে যাচ্ছে হেযবুত তওহীদ।

ট্যাগসমূহ:

মন্তব্য সমূহ (0)

বর্তমানে কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

আপনার মতামত দিন

জনপ্রিয় ট্যাগ
#মামলার অব্যাহতি #গোলটেবিল বৈঠক #হাইকোর্টের রায় #অপপ্রচার #muchleka #কোরবানি কখন কবুল হবে? #হেযবà§�ত তওহীদ #ইসলামি ইতিহাস #উগ্রবাদ #গুজব #নারী #পর্দা #প্রকৃত ইসলাম #প্রকৃত ইসলামের নারী #হেযবুত তওহীদ #হেযবুত তওহীদের নারী #ইসলাম #নোয়াখালীত #বকধার্মিকতা #মন্তব্য কলাম #মন্তব্য কলাম বাড়ছে বকধার্মিকতা #কারা সেই জান্নাতি ফেরকা? #জান্নাতি #জান্নাতি ফেরকা #মুস্তাফিজ শিহাব #চলমান সঙ্কট #মুখলেছুর রহমান সুমন #রাজনৈতিক ইসলাম #ধর্ম নিয়ে ঘৃণার রাজনীতি #রামমন্দির ও থার্ড টেম্পল #ইসলামের অপব্যাখ্যা #জাতি ভেঙে খানখান #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি #দীন নিয়ে বাড়াবাড়ির #ধর্ম #পরিণাম জাতি ভেঙে খানখান #ফেরেশতা #মানুষ সৃষ্টির #মো’জেজা: কী কেন কীভাবে? #পহেলা বৈশাখ #সংস্কৃতির #সাংস্কৃতিক অঙ্গন #আমল #ঈমান #আদিবা ইসলাম #এমামুযযামান #রিয়াদুল হাসান #লা’নত নাকি পরীক্ষা #লানত #কাঁটাতারে ব্যর্থ #বিশ্বভ্রাতৃত্বের #মুসলিম #রোড টু ফিলিস্তিন #নামাজ #নামাজ কেন পড়ছেন? #মোহাম্মদ আসাদ আলী #ধর্মজীবিকা #ধর্মবিশ্বাসী #শিক্ষাব্যবস্থা #অশান্তি সৃষ্টির কারণ #এম আর হাসান #চরিত্রহীন নেতৃত্ব #বস্তুবাদী সভ্যতা #বাস্তব সমস্যা #মহানবীর (সা.) #দেশকে রক্ষা #বিশ্ব মুসলমান #মদিনার #রাকীব আল হাসান #মাননীয় এমাম #হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম #ইসলামের ইতিহাস #মো’মেনদের #দাজ্জাল #দাজ্জালকে চিনতে হবে #ধর্মব্যবসা #উম্মতে মোহাম্মাদি #তওহীদ #মো’জেজা: #মুসলিমরা আজ সংকটের সম্মুখীন #খলিফা #দীন প্রতিষ্ঠা #দীনের মূল ভিত্তি #লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ #সেরাতুল মোস্তাকিম #২৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী #civilized’ #deterrent #islam world #world #জীবনব্যবস্থা #প্রশ্ন উত্তর #প্রশ্নোত্তর #হেযবুত তওহীদের #hezbuttawheed #hossain mohammad salim #Resolving the Global Crisis #Students #ঐক্য ##MarathonHT #Marathon #lifestyle #ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যের আহ্বান #workplace #religious extremists #democratic system #economic system #politics #Allah #Aqeedah of islam #God #Haj #Jihad #Kital #Prophet Muhammad #terrorism #কোরবানি #ত্যাগ #বজ্রশক্তি #সম্পাদক এসএম সামসুল হুদা #সাক্ষাৎকার #হেযবুত তওহীদের বিজয় #রসুলুল্লাহর সুন্নাহ #দাসপ্রথার #জঙ্গিবাদ #আইয়্যামে জাহেলিয়াত #জেহাদ #দোয়া #সঠিক জীবন ব্যবস্থা #জ্ঞান #বাণী #ইমাম মাহদী #কবিতা #রাজনীতি #মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা #আশুরা #শহীদ #প্রকৃত ইসলামের মসজিদ #মসজিদে নারী #দাউদ খান পন্নী #ঔপনিবেশিক যুগ #সংগীত #স্বাধীনতা #খোলাফায়ে রাশেদীন #যোদ্ধাসুফি #স্বর্ণযুগের মোল্লাতন্ত্র #মানুষ সৃষ্টি #প্রকৃত ইসলামের বিয়ে #বাংলার সুলতানী যুগ #গণমাধ্যম #মহামান্য এমামুযযামানের জীবনবৃত্তান্ত #ইসলাম অর্থ #শান্তি #পাকিস্তান #দৈনিক বজ্রশক্তি #খেলাধুলা #আইনের উৎস #নির্বাচন #সংস্কৃতি #জ্ঞান-বিজ্ঞান #মহানবীর লড়াই #হজ #সাম্যবাদ ও ইসলাম #বাংলাদেশ #কোর’আন #শিক্ষা #নবুয়তপূর্ব জীবন #ইসলামবিদ্বেষী #ইতিহাস ও ইসলাম #চরমোনাই #ওমর (রা.) #তারেক বিন যিয়াদ #কর্মফল #পুঁজিবাদ #মার্কস #হারাম #সুফিবাদ #বাঙালি #মানবজীবন #মুসলিমদের ইতিহাস #প্রশ্ন #রাগ #আকিদা #কমিউনিজম #জান্নাত-জাহান্নাম #মণীষীদের জীবনী #মধ্যযুগীয় বর্বরতা #স্বর্ণযুগ #গণজোয়ার #গণপ্রতিরোধ #তওহীদী জনতা #কর্মজীবন #ইসলাম আবির্ভাব #ইসলামের বিস্তৃতি #অর্থনীতি #রিজিক #বিস্ময়কর আন্দোলন #নারী স্বাধীনতা #মোনাফেক #সাম্প্রদায়িকতা #তাকওয়া #৫ দফা কর্মসূচি